অর্পিতা













অমর কথাশিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা -----

বিদগ্ধ সমালোচকদের মতে রবীন্দ্রযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক শরৎচন্দ্র । বঙ্কিমচন্দ্র ও রবিঠাকুরের রচনায় সমাজের অভিজাত , শিক্ষিত ও বিদগ্ধ জীবন কে খুঁজে পাওয়া যায় । উপন্যাস যে বাস্তব জীবনেরী প্রতিচ্ছবি , তা শরৎচন্দ্রের লেখনীতে প্রথম ধরা দিল ।তার সৃষ্ট চরিত্রেরা যে আমাদের সাধারন দুস্থ জীবন থেকেই উঠে এসেছে বোঝা যায় ; তারা সব মাটির মানুষ ; খেটে খাওয়া গ্রাম্য  জীবনের অঙ্গনে মিশে আছে তাঁর সৃষ্ট একেকটি চরিত্র ।  শরৎচন্দ্র  নিজেই বলেছেন ,'' আমার উপন্যাসে অধিকাংশ চরিত্র আমার স্বচক্ষে দেখা ।'' তিনি মানুষের অতি কাছাকাছি আসতে পেরেছিলেন --- তাদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশেছিলেন । তাদের দুঃখ-কষ্টের সাথে সম্যক পরিচিত হতে পেরেছিলেন বলেই -- বিপ্রদাস , দেবদাস, লালু , শ্রীকান্ত , মেজদাদা, ছিনাথ বহুরুপীর মতো অসংখ্য চরিত্র সৃষ্টি করেছিলেন অনায়াসেই ।

নারীজাতির প্রতি সংবেদনশীলতা ও শ্রদ্ধা তাঁর রচনাকে করেছে উজ্জ্বল ও ভাস্বর । তিনি সাধু ও চলিত দুই ভাষার সমন্বয়ে এক অদ্ভুত ভাষার সৃষ্টিকর্তা ।  'পণ্ডিতমশাই' , 'দাতা' , 'চরিত্রহীন' , 'পল্লীসমাজ' ,'গৃহদাহ' প্রভৃতি উপন্যাসে নারীপুরুষের জীবনের মান -অভিমান, প্রেম- প্রীতি , হিংসা- বিদ্বেষ অত্যুচ্চ শিল্পকুশলতায় বর্ণিত হয়েছে ।

তাঁর মতো দরদী কথাশিল্পী বাংলা সাহিত্যে বিরল । আজ সেই অমর কথা শিল্পীর জন্মদিনে আমরা বিনম্র চিত্তে শ্রদ্ধা জানিয়ে আমাদে'র শব্দের মিছিলে'র পথে হেঁটে যাব।


হুগলী । 

Previous Post Next Post

বিজ্ঞাপন